1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে খাগড়াছড়িতে সবুজায়ন কর্মসূচি, রোপণ করা হবে ২০ লাখ বৃক্ষ - আলোকিত খাগড়াছড়ি

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে খাগড়াছড়িতে সবুজায়ন কর্মসূচি, রোপণ করা হবে ২০ লাখ বৃক্ষ

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
মো. আবদুর রউফ:
খাগড়াছড়িতে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই সবুজায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার মাধ্যম নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান উপায়।
তিনি আরও জানান, পরিকল্পিতভাবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ লক্ষ গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে জেলার সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যে তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক ব্যবহারের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতিতে অবক্ষয় না হওয়ায় মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্কাশনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া তিনি জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘরোয়া ও কৃষি পর্যায়ে কম্পোস্ট সার উৎপাদন বাড়ানো গেলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি আরও বলেন, গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অক্সিজেন সরবরাহ এবং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তিনি সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি লাগানো গাছের যথাযথ পরিচর্যার জন্য আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
এসময় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আমিনুর রহমান, রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আফসারসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চেঙ্গী স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ